Thursday, July 9, 2009

নেশা কে বলুন হ্যাঁ

শিরোনাম দেখে অবাক হয়েছেন নিশ্চয়। চারিদিকে যখন নেশাকে না না বলার হিড়িক, তখন এই শিরোনাম অবাক করবে এটাই বাস্তব। আমাদের একটি বড় সমস্যা হল যখন আমরা একটি পরিবর্তন আনতে চাই তখন সব কিছুকেই বর্জন করে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে চাই (যেমন- কিছুদিন আগে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি নিয়ে হইচই হল। পুরনো একটি পদ্ধতি বাদ দিয়ে সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্ন করার কথা বলা হল। সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি একটি জটিল প্রক্রিয়া। যারা এর সাথে জড়িত তারা, বিশেষ করে আমাদের শিক্ষক সমাজ বুঝতে পেরেছেন এর জটিল দিক। একেকটি প্রশ্ন করতে গিয়ে তাদের গলদঘর্ম হতে হয়েছে। আর এটাই স্বাভাবিক। সৃজনশীল প্রশ্ন করতে যে পরিমান প্রশিক্ষণ প্রয়োজন তা তারা পায়নি। মাত্র দুই দিনের প্রশিক্ষণে আর যাই হোক সৃজনশীল প্রশ্নের মত এতো জটিল একটি বিষয় আয়ত্ব করা সাঁতার না জেনে সাগর পারি হবার মতই। আর তাই ব্যর্থ হয়েছে এর উদ্দেশ্য)। কথা হচ্ছিল নেশা নিয়ে। বড় ধরনের আয়োজন নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে নেশাকে না বলুন। কিন্তু আমরা একবারও ভাবছিনা নেশা মানেই খারাপ কিছুনা। কিছু কিছু নেশা আছে যা মানুষকে নিয়ে যায় সাফল্যেও স্বর্ণশিখরে। যেমন লেখার নেশা। একজন লেখক যখন লেখাকে নেশা হিসেবে নিতে পারে তখন সে পৌছাতে পারে সাফল্যের স্বর্ণশিখরে। আবার আছে বই পড়ার নেশা । আমার এক নানা ছিলেন যিনি তার জীবনে সব উপার্জিত অর্থ ব্যয় করেছিলেন বই কেনার পেছনে । আর সব সময় ব্যয় করেছিলেন বই পড়ার পেছনে। বই পড়া এক জটিল নেশা, তাই তো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের এতো উত্তরোত্তর প্রসার। ঐ সব বইয়ে কি থাকে ! যার জন্য বই প্রেমিকরা সব কিছু ভুলে বই নিয়ে পড়ে থাকে। আবার এই বই প্রেমিকরাই হয়ত পাঠ্য বইকে দুরে সরিয়ে রেখে। বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থীদের দেখা যায় তারা তাদের পাঠ্য বইয়ের উপরে গল্পের বই বিশেষ করে তিন গোয়েন্দার বই রেখে নিশ্চিন্ত মনে পাঠ করে যাচ্ছে। এব্যাপারে ক্লাশের সব চেয়ে অমনযোগী ছাত্রটিও সবার চেয়ে এগিয়ে থাকে। অথচ তারাই পাঠ্য বইকে চরম অবহেলায় ছুড়ে মারে। এটা কি আমাদের পাঠ্য বইয়ের একটি চরম দূর্বলতা নয়? আমাদের পাঠ্য বই যখন লেখা হয় তখন এখানে কি থাকবে তা নির্ধারন করেন বেশ কয়েক জন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি। কিন্তু যাদের জন্য এই পাঠ্য বই তাদের কোন মতামত প্রকাশের সুযোগ এখানে থাকে না। এমন কি পাঠ্য বই প্রকাশের পরও বইটির গ্রহন যোগ্যতার কোন মূল্যায়ন করা হয়না। সেদিন এক দুধের বিজ্ঞাপনে দেখলাম বিশ্বের দুইহাজার শিশুর লিভ টেস্ট করে দেখা গেছে দুধটি তাদের কাছে মজাদার একটি খাবার। এ রকম একটি গবেষণা কি আমাদের দেশের পাঠ্য বইয়ের জন্য করা যায় না। পাঠ্য বইয়ের কোন অংশটা তাদের কাছে ভাল লাগে? কেন ভাল লাগে? এসব বিষয় নিয়ে। পাঠ্য বইয়ের তুলনায় অন্যান্য বই খুদে পাঠকের মন কে ছিনিয়ে নেই। যার প্রমান বই মেলার শিশু কর্নার। এইসব বিষয় নিয়ে এনসিটিবি একটু মনোযোগ দিবে কি?

No comments:

Post a Comment